বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ০২:০২ পূর্বাহ্ন
মৌলভীবাজার জেলার সবকটি চা বাগানে সকাল থেকে দলে দলে শতভাগ শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। আজ সোমবার সকাল আটটা থেকে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, শ্রীমঙ্গল উপজেলার ফুসকুঁড়ি, কালিঘাট, ফুলছড়া ও সাতগাঁও, জেরিনসহ জেলার সবকটি চা বাগানের শ্রমিকেরা দলে দলে কাজে যোগ দিচ্ছেন। যদিও গতকাল রবিবার সাপ্তাহিক ছুটি থাকায় অনেক বাগানে কাজ হয়নি।
ফুলছড়া চা বাগানের শ্রমিক সর্দার নায়ারণ বাকতি বলেন, গতকাল কাজে যাননি এই বাগানের শ্রমিকেরা।
ফুলছড়া বাগানের সেকশনের ভেতরে ঢুকতেই কথা হয় চা শ্রমিক জোৎস্না বাকতি, মিরা কুর্মী, পূর্ণিমা ভূমিজ, জয়া ভূমিজ, দিপা তন্তবায়, অর্চনা গোয়ালা, সুচিত্রা গোয়ালা, নির্মলা কুর্মী, নয়ন কর্মীসহ অনেকে। তাঁরা বলেন, ‘১৯দিন ঘরে বসে ছিলাম। দু-বেলা আটা রুটি আর এক বেলা ভাত খেয়ে। কোনদিনও খাওয়া হয়নি। বাচ্চাকাচ্ছা নিয়া খুব কষ্টে ছিলাম। আজকে কাজে আইছি,মজুরি পাইবো,ডাল ভাত খাইতে পারবো। আন্দোলনের সময় দোকানদার বাকিতে খরচপাতি দিত না। কত কষ্টে কাটাইছি। আমরা সবাই ক্যাজুয়াল শ্রমিক। যারা পার্মানেন্ট শ্রমিক তারা বেশি মজুরি ১৭০ টাকা পাবে আর ক্যাজুয়াল শ্রমিক তার চেয়ে একটু কম পাবে। আমাদের দাবি সমানভাবে মজুরি পাই। ’
কালিঘাট চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অভান তাঁতি বলেন,‘আজ ক্যাজুয়াল ও পার্মানেন্ট শ্রমিকেরা কাজে যোগ দিয়েছেন। কেউ ঘরে বসে নেই। সবাই খুশিতে নাচ গান করেছে। কেউ দ্বিমত পোষন করেনি। ’
বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন,‘আজকে শতভাগ শ্রমিকরা কাজে গেছে। শ্রমিকেরা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সন্তষ্টি প্রকাশ করেছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, স্থায়ী শ্রমিক যে মজুরি পায় এবং একজন ক্যাজুয়াল শ্রমিক যাহাতে সমান মজুরি পায়, সেটা চুক্তিতে উল্লেখ আছে। কিছু কিছু বাগানে ৮৫ থেকে ৯০ টাকা দিয়ে থাকে। এখন মজুরি বাড়ছে,বাগান মালিকরা ক্যাজুয়াল শ্রমিকদের কত দিবে, সেটা পরে জানতে পারব। ’
প্রসঙ্গত, দৈনিক মজুরি ৩০০ টাকা করার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলনে নামেন চা শ্রমিকরা। টানা ধর্মঘট, কর্মবিরতি, বিক্ষোভ মিছিলেও সুরাহা না হওয়ায় ১৯ দিনের মাথায় বিষয়টি নজরে নেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। চা বাগান মালিকদের ডেকে নিয়ে তিনি গত শনিবার বিকেলে গণভবনে বৈঠকে বসেন। সেখানে তাঁর মধ্যস্থায় শ্রমিকদের মজুরি ১৭০ টাক নির্ধারণ করা হয়।